নরেন্দ্র মোদীর পর বিজেপির নেতৃত্বে কে ?

Entry Thumbnail
ফাইল ছবি
Bikash Deb

দ্যা সোশাল বাংলা , বিশেষ প্রতিনিধি : ভোটের মরশুমে বিজেপি অফিসে যথারীতি ব্যস্ততা চরমে, পাশাপাশি মিডিয়ার কর্মীদের আপ্যায়নেও এলাহি আয়োজন। লখনৌর ‘তেহজিব’ বা সংস্কৃতিতে অতিথিপরায়ণতার খুব কদর, দলের কার্যালয়ে মেহমানদারিও একেবারে দেখবার মতো!গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য অফিস প্রাঙ্গণের ভেতরেই বিশাল এয়ারকন্ডিশন্ড তাঁবু বসিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টার, যেখানে বসে অন্তত শ’পাঁচেক সাংবাদিক একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন। চা-কফি-লস্যির জোগানও অবিরাম।এর মধ্যেই হাসি মুখে ছোট-বড়-মাঝারি নেতারা বাইরে থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে খোশগল্প করে যাচ্ছেন। তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন ক্লান্তিহীনভাবে, রাজ্য রাজনীতির নানা জটিল অঙ্কবোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের মতো করে।লখনৌ বা এমন কী দিল্লিতেও বিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে বিব্রত বোধ করেন ঠিকই, কিন্তু এবারে ভরা নির্বাচনী মরশুমেই ইস্যুটা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে ক’দিন আগে তার প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই কেজরিওয়াল মনে করিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছরেই কিন্তু নরেন্দ্র মোদী পঁচাত্তরে পা রাখবেন – যেটা অলিখিতভাবে তার নিজেরই বেঁধে দেওয়া রাজনৈতিক অবসরের বয়স।কেজরিওয়াল তাই প্রশ্ন তুলেছেন, “আগামী বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তো মোদীজিকেও (তার নিজের করা নিয়ম অনুযায়ী) অবসরে যেতে হবে। তাহলে তার পর কে?”মোদী সামনের বছর অবসরে গেলে মন্ত্রিসভায় অলিখিত দু’নম্বর অমিত শাহ-ই দায়িত্বে আসবেন, এমনও ইঙ্গিত করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এমন কী তৃতীয়বার মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে দু’মাসের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব থেকে যোগী আদিত্যনাথকে সরানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন।বিজেপির অভ্যন্তরে ‘মোদীর উত্তরাধিকারী বিতর্ক’কে উসকে দেওয়াই যে তার উদ্দেশ্য ছিল তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সেটা যে বেশ সফলও হয়েছে, তা বোঝা গেছে অমিত শাহ বা রাজনাথ সিংয়ের মতো দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এর উত্তর দিতে বাধ্য হওয়ায়।তারা দু’জনেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদী অবশ্যই প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ পূর্ণ করবেন – তার মাঝপথে অবসরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।কিন্তু এই অবকাশে বিষয়টা নিয়ে রাজনৈতিক চর্চাও শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে – বিজেপির ভেতরে যেমন, তেমনি বাইরেও।পঁচাত্তর পূর্ণ হলে নরেন্দ্র মোদী অবসর নিন বা না নিন, দলে তার পরে কে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে আসবেন সেই প্রশ্নটা এর মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।তবে বিজেপিতে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি বা প্রেসিডেন্ট যিনিই হোন, তাকেই যে দল প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে দেখে তা কিন্তু নয়। বরং চিরকাল তার উল্টোটাই হয়ে এসেছে। বিজেপির নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী যখন প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন, তার প্রায় এক যুগ আগেই তিনি দলের সভাপতি পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন।বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বের মোট সোয়া ছ’বছরে কুশাভাউ ঠাকরে, বঙ্গারু লক্ষ্মণ, জনা কৃষ্ণমূর্তি বা ভেঙ্কাইয়া নাইডুর মতো দ্বিতীয় সারির নেতারাই বেশিটা সময় দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার ২০১৩ সালে বিজেপি যখন নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে, তখন দলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাজনাথ সিং। বস্তুত রাজনাথ সিং-ই মোদীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন, প্রবীণ নেতা আডভানির দাবিকে উপেক্ষা করেই। তথাগত রায় বলছিলেন, “আমাদের দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড হল সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সংস্থা। তারাই কোনও নামে প্রথমে সম্মতি দেয়, এবং সেখানে সঙ্ঘের নেতৃত্ব প্রকাশ্যে না-এলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় খুব ঘনিষ্ঠভাবেই যুক্ত থাকেন।” “পার্লামেন্টারি বোর্ড সবুজ সংকেত দিলে তা এরপর যায় দলের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ বা জাতীয় কর্মসমিতিতে।” “নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে কর্মসমিতির এই বৈঠকটা বসেছিল গোয়াতে। আমি নিজেও তখন কর্মসমিতির সদস্য, স্পষ্ট মনে আছে কীভাবে তার নামে সিলমোহর দেওয়া হয়েছিল। এরপর দলের ন্যাশনাল কাউন্সিলে পাস করিয়ে নিলেই নামটা চূড়ান্ত হয়”, বিবিসিকে বলছিলেন মি রায়।শেষ পর্যন্ত তখন যা-ই ঘটুক, এই মুহুর্তে সেই নেতৃত্বের দৌড়ে কারা এগিয়ে আছেন সেটাও এই ফাঁকে দেখে নেওয়া যাক।  যোগী আদিত্যনাথ (বয়স ৫১) ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপি নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা নিয়ে জেতার পর দল যখন মুখ্যমন্ত্রী পদে যোগী আদিত্যনাথকে বেছে নেয়, কেউ ধারণাও করতে পারেনি রাজ্যে তাকেই সরকার চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হবে। বস্তুত আদিত্যনাথ ওই নির্বাচনে নিজে লড়েনওনি।

পরের সাত বছরে বিতর্কিত এই গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী নেতা এবং হিন্দুদের গোরক্ষনাথ মঠের মহন্ত (প্রধান) উত্তরপ্রদেশে বিজেপির এক নম্বর মুখ হিসেবেই শুধু নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেননি, ২০২২র নির্বাচনেও বিজেপিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গরিষ্ঠতা এনে দিয়েছেন – যা ওই রাজ্যের রাজনীতিতে খুবই বিরল। ‘দিল্লি মে মোদী, লখনৌ মে যোগী’ বিজেপির খুব জনপ্রিয় একটি স্লোগানেও পরিণত হয়েছে – বিজেপির কথিত ‘ডাবল ইঞ্জিনে’র (অর্থাৎ কেন্দ্রে ও রাজ্যে যখন একই দলের সরকার) আদর্শ মডেল হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশকে।  বলা হতে থাকে, মোদী-যোগীর এই ‘অসাধারণ জুটি’ই বিজেপির সাফল্যের সেরা রেসিপি। এবারের ভোটেও রাজ্যে সব ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারে মোদীর ঠিক পরেই দেখা যাচ্ছে যোগীর ছবি, যদিও একটু ছোট সাইজে।গত দু’তিন বছর ধরে যোগীর সমর্থকরা ইতিউতি এ কথাও বলতে শুরু করেছেন, “মোদীজির পর দলের হাল ধরার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি অবশ্যই যোগীজি!” বস্তুত প্রশাসনে এক ধরনের উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও একই সঙ্গে তীব্র মুসলিম-বিরোধী পথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ বিজেপির ‘কোর ভোটব্যাঙ্কে’র কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বাড়াতে পেরেছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের বাড়িঘর বা দোকান ভেঙেছে যোগীর বুলডোজার, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের প্রায় সব বুচারহাউসও (কসাইখানা) তিনি বন্ধ করে ছেড়েছেন। তার আমলেই হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে আতিক আহমেদ বা মুখতার আনসারির মতো মাফিয়া ডনদের। আর এই সব পদক্ষেপের প্রায় সবই নেওয়া হয়েছে বেছে বেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে। তবে তা-ই বলে মোদীর উত্তরসূরী হিসেবেও তিনি নিজের নাম পাকা করে ফেলেছেন, এটা বিজেপিতেই অনেকে মানেন না।লখনৌতে দলের এক প্রথম সারির নেতা নাম প্রকাশ না-করার শর্তে বলছিলেন, “আসলে দুটো জিনিস যোগীজির বিপক্ষে যাবে। এক, তিনি কখনওই পুরোপুরি বিজেপির লোক নন। ওনার নিজস্ব হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ আলাদা – যার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।” “আর দু’নম্বর হল যোগীজি আজ পর্যন্ত কোনওদিন আরএসএসের কোনও শাখায় যাননি, খাকি হাফপ্যান্টও পরেননি (একদা যা ছিল সঙ্ঘের ইউনিফর্ম)। সঙ্ঘের হাত মাথায় র হয়ে সাংগঠনিক কাজকর্মও চালিয়ে গেছেন।না-থাকলে বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে যাওয়া বোধহয় আজও অসম্ভব।”১৯৯৮ সালে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে যোগী আদিত্যনাথ যখন প্রথম বিজেপির এমপি হয়েছিলেন, তখনও তাকে দেখতাম কখনও বিজেপির সাংবাদিক সম্মেলনের আশেপাশেও যেতেন না। ১১ নম্বর অশোকা রোডে দলের তখনকার সদর দফতরের ছায়াও মাড়াননি কোনও কালে।অমিত শাহ (বয়স ৫৯) গত ১৬ই মে ব্রিটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল “তিনি লোকজনকে ভয় দেখাতে ভালবাসেন : যেভাবে মোদীর ডান হাত, অমিত শাহ, ভারতকে চালান!” ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, গত চল্লিশ বছর ধরে অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত অনুচর, উপদেষ্টা এবং এক কথায় সব কাজের কাজী! আর এই মুহুর্তে তিনি ভারতবর্ষের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিও।নরেন্দ্র মোদী ২০১৪তে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই বিজেপির প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন অমিত শাহ। দ্বিতীয় মেয়াদে মোদী তাকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ক্যাবিনেটে অঘোষিত দু’নম্বর ব্যক্তি করে নিয়ে আসেন। অমিত শাহকে অনেকেই নরেন্দ্র মোদীর ‘অল্টার ইগো’ বা বিকল্প সত্ত্বা বলেও বর্ণনা করেছেন।নরেন্দ্র মোদীর সম্বন্ধে একটা কথা চালু আছে, তার ডান হাত কী করছে সেটা বাঁ হাতও না কি জানতে পারে না। বিজেপির একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একবার আমায় বলেছিলেন, “বাঁ হাত না-জানতে পারে, কিন্তু অমিতভাই অবশ্যই জানবেন!”উত্তরসূরী বাছাই করার প্রশ্ন এলে নরেন্দ্র মোদীর মতামতই যদি প্রাধান্য পায়, তাহলে তিনি শেষ পর্যন্ত অমিত শাহকেই বেছে নেবেন এমন একটা ধারণাও বিজেপির অন্দরে বেশ চালু আছে।অমিত শাহ নিজে আরএসএসেরও বেশ ঘনিষ্ঠ। খুব ছোটবেলা থেকে গুজরাটে বাড়ির কাছে আরএসএস শাখায় তার যাতায়াত, সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবেও তিনি বহুদিন কাজ করেছেন।ফলে তার নাম নিয়ে সঙ্ঘেরও হয়তো বিশেষ আপত্তি থাকবে না, এমনটাই অভিমত বহু পর্যবেক্ষকের। তবে তার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে উঠতে পারে তার কাজের ধরনধারন বা ‘ম্যান ম্যানেজমেন্টে’র পদ্ধতি – এই থিওরিও কিন্তু বেশ চালু।যোগেশ মিশ্র যেমন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা ক্যাবিনেটে দু’নম্বর, সে সব ঠিক আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে সেই নেতার কিন্তু বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও একটা ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা থাকা দরকার, যেটা অমিত শাহর একেবারেই নেই।”অমিত শাহকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ‘ছায়া’ বলে বর্ণনা করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার ধারণা আসল লোকটি একদিন সরে গেলে ছায়াটাও কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দ থেকে সরে যাবে।”এটা ঠিকই, অমিত শাহর সঙ্গে ভারতের বিরোধী দলগুলোর সম্পর্ক আসলে শুধু খারাপ নয়, অত্যন্ত খারাপসোহরাবউদ্দিন শেখ এনকাউন্টার মামলায় একদা জেল খাটা অমিত শাহই এখন সিবিআই বা ইডি পাঠিয়ে দেশের বিরোধী নেতাদের প্রতিনিয়ত হেনস্থা করে থাকেন, বিরোধী শিবিরে এই ধারণাও বেশ বদ্ধমূল।তবে বিরোধী শিবির কী ভাবল, সেটা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী কোনও দিন কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। উত্তরসূরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তিনি তা করতে যাবেন সেটা ভাবার কোনও কারণ নেই – আর এখানেই সম্ভবত অমিত শাহর অ্যাডভান্টেজ।তা ছাড়া মোদীর প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষাতেও তিনি বরাবর সসম্মানে উত্তীর্ণ।  গত চল্লিশ বছর ধরে দু’জনের সম্পর্কও একেবারে অটুট রয়েছে।২০১৪ সালে যে নির্বাচনে জিতে মোদী প্রধানমন্ত্রী হন, তাতে দীর্ঘ চার দশক পর ভারতের কোনও রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টে এককভাবে গরিষ্ঠতা পেয়েছিল।সেই ঐতিহাসিক বিজয়ের পরও নরেন্দ্র মোদী কিন্তু প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, “আমি ক্যাপ্টেন হতে পারি, কিন্তু এই নির্বাচনের ম্যান অব দ্য ম্যাচ অবশ্যই অমিতভাই!”রাজনাথ সিং (৭২)নিউজট্র্যাকের সম্পাদক তথা বিজেপির রাজনীতি গুলে খাওয়া যোগেশ মিশ্র কিন্তু মোদীর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তৃতীয় আর একটি নামও দেখছেন – সেটি রাজনাথ সিংয়ের।রাজনাথ এই মুহুর্তে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, মোদীর প্রথম মেয়াদে ছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারেও তিনি ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলেন – যে অভিজ্ঞতা আজকের বিজেপিতে প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে আর কারওরই নেই।রাজনাথ সিং লখনৌ আসন থেকে নির্বাচিত বহু বছরের এমপি, বিজেপির সাবেক সভাপতিও বটে।“আসলে আমি যেটা বুঝেছি নরেন্দ্র মোদী সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন ফিসফিসানি বা হুইসপারিংকে। তিনি চমক দিতে খুব পছন্দ করেন, আর যেটা নিয়ে আগে থেকেই জল্পনা চলছে সেটাই করাটা তার ঘোরতর না-পসন্দ!”, বলছিলেন যোগেশ মিশ্র। “আর যেহেতু যোগী বা অমিত শাহর নাম নিয়ে এখন থেকেই এত চর্চা, তাই হয়তো দেখা যাবে তিনি এদের বাইরে সম্পূর্ণ অন্য একজনকে বেছে নিলেন!”আর ঠিক এখানেই রাজনাথ সিংয়ের ‘সম্ভাবনা’ দেখছেন পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ।মনে রাখতে হবে, বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদীর নাম কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন রাজনাথই। নরেন্দ্র মোদী তখন গুজরাটের বারো বছরের মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই, কিন্তু সর্বভারতীয় স্তরের কোনও নেতা নন।বাস্তবের রাজনীতিতে প্রতিদান বলে যদিও কিছু হয় না – নেহাত কৃতজ্ঞতার বশেও মোদী হয়তো সে কথা মনে রাখতে পারেন। তবে বয়সটা অবশ্যই রাজনাথ সিংয়ের বিপক্ষে যাবে, কারণ মোদীর চেয়ে তিনি মাত্রই বছরখানেকের ছোট।শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেসে অবশ্য মন্ত্রিসভায় তার সতীর্থদের অনেকের চেয়ে রাজনাথ অনেক এগিয়ে, দেশ জুড়ে ভোটের প্রচারও করছেন অক্লান্তভাবে।রাজনাথ সিংয়ের অনুকূলে আরও দুটো ফ্যাক্টরও কাজ করতে পারে – এক, তিনি সঙ্ঘের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দুই, বিরোধী শিবিরের বহু নেতা-নেত্রীর সঙ্গেও তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব হৃদ্যতার।উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের ছেলে রাজনাথ সিংও খুব কম বয়স থেকেই আরএসএসের সদস্য। ফিজিক্সের ছাত্র ছিলেন, কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি বহু বছর ধরে সঙ্ঘের হয়ে সাংগঠনিক কাজকর্মও চালিয়ে গেছেন।

0 Comments

Leave a Comment