সালোয়ার-কামিজ 'অশ্লীল'! ১৫ বছর ধরে স্কুলে ঢুকতে বাধা শিক্ষিকাকে!

Entry Thumbnail
ছবি : releated
Bikash Deb

বাঁশদ্রোণী থেকে বাসন্তী পর্যন্ত নিত্য যাতায়াতের সমস্যার কারণে শাড়ি পরা সম্ভব নয়। তাই সালোয়ার পরেছিলেন। আর তাই 'কেটে নেওয়া' হয় তাঁর চুলও!বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব প্রায় ৬২ কিলোমিটার! শাড়ি পড়ে যাতায়াতে সমস্যায় এড়াতে সালোয়ার কামিজ বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষিকা। আর সেই কারণেই প্রায় ১৫ বছর ধরে স্কুল  ছাড়া বাঁশদ্রোণী সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। দীর্ঘ হেনস্থার জেরে আসে মানসিক অসুস্থতাও। অবশেষে নিজের অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন বাসন্তীর বাসিন্দা মধুরিমা দাস। আর সব শুনে এদিন ঘোর বিস্ময় প্রকাশ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়। ডিআই-কে বিচারপতির কড়া নির্দেশ, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ৪ সপ্তাহের মধ্যে মধুরিমা দাসকে পুনরায় নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্কুলে সালোয়ার কামিজ পড়া নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে শিক্ষিকার বিবাদ বাঁধে। বাঁশদ্রোণী থেকে বাসন্তী পর্যন্ত নিত্য যাতায়াতের সমস্যার কারণে শাড়ি পরা সম্ভব নয়। জানান তিনি। কিন্তু লাভ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়ে কোনও কাজ হয়নি। ২০১০ সালে ডিসেম্বর মাসে ছাত্রীদের সামনেই স্কুল কর্তৃপক্ষেক একাংশ ও অভিভাবকদের একাংশ তাঁর চূড়ান্ত হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, চুল কেটে নেওয়ার চেষ্টাও হয়। পরে বাসন্তী থানার পুলিস গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর থেকে আর স্কুল ঢুকতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। বন্ধ করে দেওয়া হয় বেতনও। 

হেনস্থার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ২০১৭ সালের ২৩ অগাস্ট তিনি ফিট সার্টিফিকেট পান। তারপর ফের শিক্ষা দফতর কাছে আবেদন জানান, তাঁকে পুনরায় নিয়োগের জন্যে। কিন্তু কোনও সুরাহা না পেয়ে শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ শিক্ষিকা। এদিন পুরো ঘটনা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়। মামলাকারী শিক্ষিকার আইনজীবী আশিষ কুমার চৌধুরী এদিন আদালতে সওয়াল করেন, "পোশাক পরার সিদ্ধান্তের উপর ম্যানেজিং কমিটি ফতোয়া জারি করতে পারে না। যে পোশাক তিনি পরে গিয়েছিলেন তার মধ্যে অশ্লীলতা ছিল না। তারপরেও তাঁকে চূড়ান্ত হেনস্থা শিকার হতে হয়।" 

0 Comments

Leave a Comment