গরম

বিশ্বজুড়ে দাপট বাড়াচ্ছে উষ্ণায়ন। তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে ভারতকেও। ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন শহরে গরমের প্রকোপ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কথা হল, গ্রীষ্মের এই দাপট মোকাবিলা করার জন্য ভারতের শহরগুলি কি আদৌ প্রস্তুত? ভারতীয় শহরগুলিতে যে 'হিট অ্যাকশন প্ল্যান' (হ্যাপস) গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলি কি আদৌ কার্যকর? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদমই না।একটি নতুন সমীক্ষা এবং গবেষণায় জানা গিয়েছে, গরম মোকাবিলায় ভারতীয় শহরগুলিতে যে 'হিট অ্যাকশন প্ল্যান' নেওয়া হয়েছে, তাতে যথার্থ সুদূরপ্রসারী কৌশলের অভাব রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে এই সমস্ত শহরগুলিতে গরমের প্রকোপে মৃত্যুর ঘটনা আরও বাড়বে। তার প্রধান কারণ হল - বারবার ফিরে আসা গুরুতর প্রভাব বিস্তারকারী দীর্ঘমেয়াদি হিট ওয়েভ বা লু-এর দাপট।সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটির শিরোনাম হল - 'ভারত কি বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রস্তুত? ভারতের সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে ১১ শতাংশ শহুরে জনসংখ্যার জন্য তাপ স্থিতিস্থাপকতা ব্যবস্থা কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে'। এই সমীক্ষা ও গবেষণা চালিয়েছে দিল্লির নবগঠিত একটি সংস্থা - 'সাস্টেনেবল ফিউচার্স কোলাবোরেটিভ' (এসএফসি)।যাঁরা এই গবেষণাপত্রটি লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন - সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির একাধিক গবেষক। একইসঙ্গে, এই কাজে হাত লাগিয়েছেন - ইংল্যান্ডের কিং'স কলেজ লন্ডন, আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রিন্সটোন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও।ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পৃথিবী বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রকের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি প্রশ্নের জবাবে লোকসভায় জানিয়েছিলেন, প্রবল হিট ওয়েভের প্রকোপ মোকাবিলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই দেশের ২৩টি রাজ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে হ্যাপস কার্যকর করেছে।ওই একই সময়ে মন্ত্রী জানান, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভারতে হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২০ সালে যে সংখ্যাটি ছিল - ৫৩০, ২০২২ সালে তা বেড়ে হয় - ৭৩০! যদিও ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে যায় বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তাঁর সেই দাবি অনুসারে, ওই বছর হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয় - ২৬৯টি ঘটনার ক্ষেত্রে এবং হিট স্ট্রোকেই মৃত্যু বলে নিশ্চিত করা হয় - ১৬১টি ঘটনার ক্ষেত্রে।
0 Comments
Leave a Comment