এবার প্রশাসনের বাড়িতেই চুরি । নিজেকেই রক্ষা করতে পারছে না প্রশাসন । ২০ লক্ষ টাকার সোনার চুরি ।

Entry Thumbnail
Bikash Deb

দ্যা সোশ্যাল বাংলা , নিজস্ব প্রতিনিধি বিজয় ভৌমিক : এক দিকে রাজ্যে সু'শাসনের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া আর অপর দিকে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে নিশি কুটুম্বের হানা! দিন দিন সাধারণ মানুষ যেন এক প্রকার সর্বশান্ত । উল্লেখ্য, দিন-দুপুরে ঘন-বসতি পূর্ণ এলাকার এক সাধারণ ব্যক্তির বাড়ি থেকে একগুচ্ছ চুরের দল তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ প্রশাসনকে ফের একবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বাড়ির সদস্যদের অনুপস্থিতিতে কিছু সময়ের ব্যবধানে চার চারটি আলমারির লকার ভেঙে উধাও করে দেয় ১৫ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার সহ নগদ অর্থ রাশি । ঘটনা তেলিয়ামুড়া থানাধীন কালিটিলা এলাকার ১৪ নং ওয়ার্ডে আজ শনিবার দুপুর আনুমানিক ৩ টা নাগাদ । জানা গেছে চুরি-কাণ্ডে সর্বস্বান্ত হওয়া বাড়ির মালিকের নাম অংশুমান দত্ত । তিনি পেশায় এক জন তেলিয়ামুড়ার গামাইবাড়ি স্থিত বন দপ্তরের অফিসে কর্মরত কর্মচারী । ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, অন্যান্য দিনের মতোই আজ শনিবারেও সর্বস্বান্ত হওয়া বাড়ির মালিক অংশুমান দত্ত সকাল সকাল অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায় । সেই সময় বাড়িতে থাকে স্ত্রী ও ছেলে । কিন্তু আজ দুপুর ১ টা নাগাদ স্বামী অংশুমান দত্তের অফিসে থাকাকালীন সময়েই হঠাৎ স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে গামাইবাড়িস্থিত বাপের বাড়িতে চলে যায় । আর সেই খালি বাড়ির সুযোগেই একদল চোর বাড়ির পেছন দিক দিয়ে দেওয়াল টপকে কাটার দিয়ে লোহার লক ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক চার চারটি আলমারির লকার ভেঙে সমস্ত স্বর্ণালংকার সহ নগদ অর্থ রাশি বের করে চম্পট দেয় । কিন্তু পরবর্তীতে অফিসের ডিউটি সেরে যখন বাড়ির মালিক অংশুমান দত্ত পরন্ত দুপুর নাগাদ গেইটের তালা খুলে বাড়িতে প্রবেশ করে তখন ঘরের তালা খুলতেই বিছানার মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সমস্ত স্বর্ণালংকারের খালি বক্স গুলো এলো মেলো পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় । সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় চিৎকার চেঁচামেচি ও সর্বস্বান্ত হওয়া আর্তনাদ । সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে আসে পার্শ্ববর্তী স্থানীয়রা । পরবর্তীতে খবর দেওয়া হয় তেলিয়ামুড়া থানায় ।

খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ বাবুরা । সমস্ত ঘটনার তদন্ত চলাকালীন পুলিশ বাবুরা ঘরের মধ্যে থেকে উদ্ধার করে  দু'টো ধারালো দা অস্ত্র । পরবর্তীতে পুলিশ একটি চুরির ঘটনার মামলা নিয়ে চোরের ফেলে যাওয়া ধারালো অস্ত্র গুলো তেলিয়ামুড়া থানায় নিয়ে আসে । এই দিকে প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে ঘন বসতি পূর্ণ কালিটিলা এলাকায় চুরির ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে । বলা চলে রীতিমতো চুরের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে এক প্রকার আতঙ্কে রয়েছে তেলিয়ামুড়ার সাধারণ মানুষ । রীতিমতো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তেলিয়ামুড়া থানার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও । ইতি মধ্যেই তেলিয়ামুড়া শহরে বেশ কিছু দিনের ব্যবধানে একাধিক বিক্ষিপ্ত ঘটনার জেরে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ বাবুদের আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতার দিকেই আঙ্গুল তুলতে শুরু করেছে আম জনতা । যদিও মূলতঃ তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ বাবুরা নামকাওয়াস্তে তদন্তে নাম লিখিয়েছে । এখন মূলতঃ এটাই দেখার বিষয় যে আদৌও তেলিয়ামুড়া থানার রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত পুলিশ বাবুরা চুরের টিকির নাগাল পায় কি না! সু'শাসনের রাজ্যে তেলিয়ামুড়া শহরে আইন-শৃঙ্খলা দিন দিন‌ যে কতোটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেইটার যেন জলজ্যান্ত সাক্ষী হয়ে দাঁড়ালো আজকের এই চুরি কান্ড । তবে সূত্র মারফত জানা গেছে তেলিয়ামুড়া শহর জুড়ে শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন সচেতন মহলের আলোচনায় মূলতঃ তেলিয়ামুড়া থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত খাঁকি বাবুদের আইন শৃঙ্খলার ব্যর্থতার কর্মকাণ্ডের কুম্ভমেলা ।।

0 Comments

Leave a Comment