ছবি :প্রধান বিমল

তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি,বিজয় ভৌমিক :- ত্রিপুরার বয়োজ্যেষ্ঠ মন্ত্রী রতন লাল নাথের বাণী যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলছে ত্রিপুরার বিজেপিতে । তিনি মূল্যবান ভাষণে এক সময় বলেছিলেন ত্রিপুরার বিজেপির রাষ্ট্রবাদী কার্যকর্তারা নাকি প্রত্যেক জন এক একটা জিনিয়াস! শুধু তাই নয় এক এক জন নাকি ঈশ্বরসম দেবতুইল্য কার্যকর্তা । কিন্তু বিজেপির এই দেবতুইল্য কার্যকর্তারা আজ দিকে দিকে সবকা সাথ সবকা বিকাশের মন্ত্র ভুলে গিয়ে যৌন প্রতিযোগিতা খেলায় মেতে উঠেছে । উল্লেখ্য, কৃষ্ণপুর - তেলিয়ামুড়া - উদয়পুর - ধর্মনগর - সালেমা কেউ কারোর থেকে কম নয়! বলাই বাহুল্য, জন-দরদী বিজেপির নেতাদের যৌন দরদী কার্যকলাপের কুম্ভমেলা চলছে রাজ্য জুড়ে । বিগত মাস পূর্বেও ২৯ কৃষ্ণপুরের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বিধানসভা কেন্দ্রের এক বিজেপি নেতা নেত্রীর লম্প যম্প ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল । এই বার ফের যৌন সংক্রান্ত বিষয়ে শিরোনামে উঠে আসলো মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকা । বিবরণে প্রকাশ, ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান বিমল দাসের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের এক মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণ সহ যৌন হেনস্থার একাধিক কু'কীর্তির পর্দা ফাঁস করলো খোঁদ তেলিয়ামুড়া থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে ওই মহিলা । উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা ত্রিপুরা বিধানসভার জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মাকে কালিমালিপ্ত করতে যেন উঠে পড়ে লেগেছে দলীয় এক দেবতুইল্য কার্যকর্তা । যার নাম বিমল দাস । সে লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান পদে আসীন রয়েছে । তবে বললে খুব একটা ভুল হবে না বিগত দিনেও তার নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছিল তার নিজস্ব এলাকা থেকেই । বিমলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ স্থানীয় এলাকার মানুষ জন । কিন্তু দেবতুইল্য কার্যকর্তা হওয়ার সুবাদে মুখ উচিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না । কিন্তু মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার কাছে বারংবার উপ-প্রধান বিমল দাসের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ জমা পড়লেও বিমল দাস মন্ত্রী মহোদয়ের খুব কাছের লোক হওয়ার সুবাদে মন্ত্রী বিমলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না । এই দিকে বিজেপি উপ-প্রধান বিমল দাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকার এক মহিলার বিস্ফোরক অভিযোগ -
কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি উপ-প্রধান স্থানীয় এলাকার এক মহিলাকে অশালীন অফার করে যে এলাকার জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার সাথে ঘোরাফেরা করলে নাকি মহিলাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে । পরবর্তীতে প্রাপ্য এই ৫০ হাজার টাকা মহিলা যেন অশ্লীলতায় ভরা যৌন পাষণ্ড বিজেপি উপ-প্রধান বিমল দাসকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে দেয় । শুধু তাই নয় মহিলাকে বহুবার বিভিন্ন মাধ্যমে বিরক্ত করা সহ কু'কীর্তির কথা তুলে ধরতো বিজেপি নেতা বিমল দাস - এমনটাই রয়েছে হেনস্থার বশীভূত মহিলার তরফে অভিযোগ । শুধু তাই নয় মহিলাকে নিজের ফাঁদে ফেলতে তবুও হাল ছাড়ে নি বিজেপি নেতা বিমল । একটা সময় সে মহিলাকে তার সাগরেদদের সঙ্গে মনত্যাং হিলে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয় । অতঃপর বারংবার বিজেপি নেতা বিমল দাসের সমস্ত প্রস্তাব মহিলার নাকচ করে দেওয়ার জেরে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বিজেপি নেতা উপ-প্রধান বিমল দাস । পরবর্তীতে মহিলাকে ফোন করে দেখে নেওয়ার হুমকি সহ আইনি গ্যাঁড়াকলের নাকি ভয় দেখানো শুরু করে বিজেপি নেতা বিমল দাস - এমনটাই মহিলার অভিযোগ । ঘটনা এখানেই থেমে থাকে নি । আজ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসেছে আচমকা সুযোগ বুঝে বিজেপি নেতা বিমল দাস ও সাগরেদ হঠাৎ এই মহিলার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় । পরবর্তীতে নিজেকে পবিত্র চরিত্রের অধিকারী করে তুলতে আগাম তেলিয়ামুড়া থানায় এসে উল্টো হেনস্থার বশীভূত এই মহিলার বিরুদ্ধেই লিখিত মামলা ঠুকে দেয় বিজেপি নেতা উপ-প্রধান বিমল দাস । এই দিকে বিজেপির তরফে মামলা পেয়েই মহিলার বাড়িতে তড়িঘড়ি ছুটোছুটি শুরু করলো তেলিয়ামুড়া থানার রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত ত্রিপুরা পুলিশ । পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তেলিয়ামুড়া থানা চত্বর থেকে বেড়িয়ে থানার সামনে দাঁড়িয়েই বিজেপি নেতা উপ-প্রধান বিমল দাসের চরিত্রের বিরুদ্ধে উপরিউক্ত ঘটনাবলী সহ পুরো পর্দা ফাঁস করে এই মহিলা । সব শেষে মন্ত্রী মহোদয় সহ প্রশাসনের কাছে তিনি একটাই আবেদন করেন তদন্ত ক্রমে বিজেপি নেতা উপ-প্রধান বিমল দাসের বিরুদ্ধে যেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে । আগামী দিনে বিমল দাসের মতো কোন উপ-প্রধান যেন আর মা-বোনেদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে সাহস না পায় । পাশাপাশি সমস্ত মা-বোনেরা যেন সব সময়ে রাস্তায় নির্ভয়ে চলাচল করতে পারে তারও আবেদন জানান অসহায় মহিলা!!
0 Comments
Leave a Comment